আমাদের শুরুর কথা: চির সুখী জন, ভ্রমে কি কখন ,
                                  ব্যাথিত বেদন.বুঝিবে সে কিশে,
                                  কি যাতনা বিষে,
                                 কভু আসি বিষে, দংশেনী যারে?

কবির এ কাব্যাংশের আলোকে আমরা ভাবলেই দেখি যার দুয়ারে মেটাবলিক ব্যাধিগুলো একবার নক করেছে (যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, এজমা ও ক্যানসার) সে বুঝে এসবের যন্ত্রনা ও পরিণামের ভয়াবহতা। এখন সকলেই সর্বসম্মতভাবে একমত যে, আমাদের প্রতিদিনের খাওয়া-দাওয়া,পানীয় এমনকি ঔষধেও ভেজালের মহামারিতে আমরা আক্রান্ত। আমাদের মহানগরীতে পানির দুষনে, বাতাসের বিষাক্ততায়, সাক-সব্জি,মাছ-মাংশ ও ফল-মূল,আটা,চাল,চিনি,মিষ্টি কোন্টার দিকে তাকাবেন? সবই এখন ভয়ানক।যারা মানবতার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তারাই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনছে, আবার তারাই সমাজ সেবকের খাতায় নাম লিখিয়ে আল্লাহর বিষ্ময়কর সৃষ্টি মানুষের সাথে তামাশা করছে। আর আমাদের এমন দুর্বিসহ অবস্থার জন্য মানবতার সাথে তামাশাকারী যারা, তারা ১ম দায়ী নয়; ১ম নম্বর দায়ী আমরা নিজেরা! কারন আমরা গফেল, উদাসীন, অবচেতন তথা ঘুমন্ত! আসুন এখান থেকে মুক্তি পেতে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, অবচেতনার ঘুম থেকে জেগে উঠি; তাহলে ওরা আমাদের ঘুমিয়ে রেখে বিষাক্ত ইনজেকশন আর পুশ করতে পারবেনা। অন্তত: আমাদের পরবর্তী জেনারেশন অভিসম্পাত থেকে বাচার এবং আশীর্বাদ পাওয়ার পথ সুগম হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস করি।

আমাদের উদ্দেশ্য:

(১) পারস্পরিক সহযোগিতার নিমিত্তে মেধার সমন্বয় ও বিকাশ করা।
(২) সকল ভেজাল/দুষণ থেকে মুক্তির চূড়ান্ত প্রচেষ্টা করা ।
(৩) অর্গানিক খাবার উৎপাদন,সংগ্রহ ও বিপননকে উদ্বুদ্ধ করা ।
(৪) যে কোন মাদক বা তৎসংশ্লিষ্ট নেশাগ্রস্ততা থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টা করা।
(৫) বিষাক্ত, ভেজালযুক্ত,নিজের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকারক কোন কিছুই আমাদের উদ্যোগে সংগ্রহ,বিতরন,বিপনন করা হবেনা।
(৬) সমন্বিত ও সম্মিলিত হালাল ব্যবসার প্রয়াস চালানো।
(৭) পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা।
(৮) বেকারত্ব দূরীকরন ও কর্মসংসংস্থান সৃষ্টি করা।

আমাদের লক্ষ্য:

সকল প্রকার ভেজাল , ক্ষতিকর, অস্বাস্থকর ও দূষনের বিপক্ষে এবং সার্বজনিনতার পক্ষে সচেতনতায়
বৈপ্লবিক ভ’মিকা রাখা।

আমাদের সাথে যারা সম্পৃক্ত হবেন:

ক) যে কোন প্রকার মাদক ও নেশামুক্ত হতে হবে।
খ) কমপক্ষে ১৮ বৎসর বয়সী বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
গ) যে কোন ধর্মোবলম্বী হতে পারবেন।
ঘ) সকল সভায় মার্জিত কিন্তু ষ্পষ্ঠ মত প্রকাশের অধিকারী হবেন।
ঙ) আইন শংখলা পরিপন্থী কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি সদস্য হওয়ার অযোগ্য।
চ) কমপক্ষে ৫০০ শেয়ার (১০/= দশ টাকা মূল্য) এর একটা লট কিনতে হবে এবং অফেরতযোগ্য ৫০০/= দিতে হবে।
ছ) সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
জ) ইচ্ছে করলে একাধিক লট কিনতে পারবে।
ঝ) ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি মানবিক ভূমিকা রাখতে হবে।

আমাদের কার্যক্রম:

* শেয়ার মানি সংগ্রহ ।
*সম্মিলিত ফান্ডকে বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোম্পানিকে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত করা।
*ক্রমান্বয়ে নির্ভেজাল পন্য দব্য উৎপাদনে পদক্ষেপ নেয়া।
*অর্গানিক খাদ্য-দ্রব্য সংগ্রহ, উৎপান ও বিপনন করা।
*পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু দূষণ রোধে সরকারী বেসরকারী সকল কার্যক্রমকে সহযোগিতা বা তরান্বিত করা।
*সকল প্রকার ভেজাল দূষনের বিপক্ষে গনসচেতনতা তৈরীতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহন।
*সভা,সেমিনার ,সিম্পোজিয়াম ও গোলটেবিল বৈঠক ইত্যাদি করা।
*লিফলেট,ষ্টিকার পোষ্টারিং ইত্যাদি করা।

 

জনাব/জনাবা,
সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা অতী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোকপাত করছি। মহাপরাক্রমশালীর অনেক আগ্রহ ও ভালাবাসার বহিঃপ্রকাশ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব জাতি আজ নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুমে জর্জরিত। মানবের মানবতা আজ চরমভাবে বিপন্ন,ক্ষত-বিক্ষত ও মর্মাহত। অনেক প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার মোকাবেলা আমারা করছি; তবে সর্বমহলের সবাই একটা বিষয় নির্বিগ্নে বা নির্ধিধায় ও অকপটে স্বীকার করবেন যে, আমরা চতুর্মূখী ভেজালের মধ্যে আকন্ঠ নিমজ্জিত। আমরা চলছি ফিরছি, কাজ-কর্ম সবই করছি; কিন্তু প্রতিদিন প্রতিক্ষণে পানাহার বা খাবার হিসাবে যা খাচ্ছি তার একটা মিনিমাম পার্সেন্টেজও আমরা নির্ভেজাল বা দূষনমুক্ত পাচ্ছিনা তথা খাচ্ছিনা। সবাই বিচলিত, চিন্তিত, ব্যাথিত ও মর্মাহত; অথচ সবাই নির্বিকার। সবাই উপলব্ধি করছি আমরা এমন এক ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরী; কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছিনা। জেনে-বুঝে বিষ পান করছি, আবার বিষের আক্রমন থেকে বা ক্ষতি থেকে বাঁচারও আশা পোষণ করছি। কি এক অদ্ভ’দ স্ববিরোধী আচরন নিয়ে চলছি। কেউ কোথাও একটা শক্ত উদ্যোগ নিচ্ছেনা, এমন বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার নিমিত্তে! কেমন যেন এক অজানা গন্তব্যে ধেয়ে চলছি আমরা সকলে মিলে! এমন উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠা থেকে মুক্তির প্রয়াস হিসাবে আমরা মুষ্টিমেয় কয়েকজন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজেরা বাচাঁর চেষ্টা করবো, সমাজকে বাঁচানোর জন্য প্রচেষ্টা চালাবো,সমাজ ও রাষ্ট্রকে এহেন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করবো। আমাদের এমন পথ চলাতে আপনার মেধা, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও সম্পৃক্ততা আমাদেরকে অনুপ্রাণীত করবে এমন প্রত্যাশা করছি।

ধন্যবাদান্তে
ডাঃ এ এন এইচ হাফিজুর রহমান
এম বি বি এস, ডি এম ইউ,এফ সি জি পি
হোলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল হসপিটাল এন্ড কলেজ।